File photo

প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকের চেয়ে বন্ড কেনা উত্তম

ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, মেয়াদঃ ৫ (পাঁচ) বছরবন্ডের মূল্যমানঃ টাকা ২৫,০০০/-; টাকা ৫০,০০০/-; টাকা ১,০০,০০০/-; টাকা ২,০০,০০০/-;টাকা ৫,০০,০০০/-; টাকা ১০,০০,০০০/; এবং ৫০,০০,০০০/-।
মুনাফাঃমেয়াদান্তে মুনাফা ১২%। বন্ড ধারক ১২% হারে প্রত্যেক বছরে ষান্মাসিকভিত্তিতে মুনাফা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে ষান্মাসিকভিত্তিতে মুনাফা উত্তোলিত না হলে, মেয়াদপূর্তিতে মুল অংকের সাথে ষান্মাসিকভিত্তিতে ১২% চক্রবৃদ্ধি হারে উক্ত মুনাফা প্রদেয় হবে।

File photo

মৃত্যু ঝুঁকি সুবিধাঃ
o একজন ওয়েজ আর্নার প্রাথমিকভাবে ন্যূনতম টাকা ২৫,০০০/- বা ততোধিক মূল্যের বন্ড ক্রয় করলে নির্ধারিত হারে মৃত্যু ঝুঁকি সুবিধা পাবে। তবে উক্ত ক্রয় সংশ্লিষ্ট ওয়েজ আর্নারের মৃত্যুর পূর্বেই সংঘটিত হতে হবে।
o ওয়েজ আর্নারের মৃত্যুর পূর্বেই যদি বন্ডের মেয়াদপূর্ণ হয়, তা হলে মৃত্যু ঝুঁকি সুবিধা প্রাপ্য হবে না;
o বন্ড ধারকের মৃত্যুর ৬-মাসের মধ্যে মৃত্যু ঝুঁকি সুবিধা দাবী করতে হবে। এর পর মৃত্যু ঝুঁকি সুবিধার বিপরীতে কোন দাবী গ্রহণযোগ্য হবে না;
o মৃত্যু ঝুঁকি সুবিধার পরিমাণ টাকা ৫,০০,০০০/- এর অধিক হবে না;
o ওয়েজ আর্নারের বয়স ৫৫-বছরের অধিক হলে মৃত্যু ঝুঁকি সুবিধা প্রাপ্য হবে না।
কারা ক্রয় করতে পারেঃ
o বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী ‘ওয়েজ আর্নার’' নিজ নামে অথবা; আবেদনপত্রে উল্লিখিত তার মনোনীত ব্যক্তির নামে অথবা প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার বেনিফিসিয়ারী-এর নামে এ বন্ড ক্রয় করা যায়;
o বিদেশে লিয়েনে কর্মরত বাংলাদেশী সরকারী, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্বায়ত্বশাসিত ও আধা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ;
o বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, যারা বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন, তারা এ বন্ড ক্রয় করতে পারবেন।
কোথায় পাওয়া যাবেঃ
o বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তফসিলী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ ঐ সকল শাখা, যারা ওয়েজ আর্নারদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব পরিচালনা করে থাকেন;
o বিদেশস্থ বাংলাদেশী ব্যাংকসমূহ ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংকসমূহ;

ক্রয় পদ্ধতিঃ
o বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তফসিলী ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (এ.ডি) শাখাসমূহে এবং বাংলাদেশী কোন ব্যাংকের বিদেশস্থ শাখা অথবা তাদের আওতাধীন বিদেশে কার্যরত এক্সচেঞ্জ কোম্পানীসমূহে বন্ড ক্রয়ের আবেদনপত্র ডি.বি-১ ফরম পুরণ ও স্বাক্ষর করে বন্ড ক্রয়ের আবেদন করা যায়।
o ওয়েজ আর্নারের আবেদনের সূত্রে অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে, ব্যাংক ওয়েজ আর্নার কর্তৃক পরিচালিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমাকৃত অর্থ বিকলন করে বন্ড ইস্যু করতে পারে;
o কোন বেনিফিসিয়ারী ওয়েজ আর্নারের নিকট হতে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের বিপরীতে দালিলিক প্রমানাদি উপস্থাপন সাপেক্ষে বন্ড ক্রয় করতে পারেন;
মূল্য পরিশোধ পদ্ধতিঃ
o নগদ বৈদেশিক মুদ্রায় অথবা রেমিট্যান্স হিসেবে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা হতে রুপান্তরিত বাংলাদেশী টাকায়;
o ওয়েজ আর্নার কর্তৃক বিদেশ হতে প্রেরিত এবং তাঁর এফ.সি একাউন্টে জমাকৃত অর্থ দ্বারা অথবা;
o বৈদেশিক মুদ্রায় চেক, ড্রাফট বা প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকা ড্রাফট-এর মাধ্যমে;
বন্ড নগদায়ন পদ্ধতিঃ
o এ বন্ডের ইস্যু অফিস-ই হবে এর প্রদানকারী অফিস।
o বিদেশেস্থ ইস্যু অফিস থেকে বন্ড ক্রয় করা হলে সেখান থেকে নগদায়ন করা যায় না।
o বিদেশ থেকে বন্ড ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাকে আবেদনপত্রে বাংলাদেশে প্রদানকারী অফিসের নাম উল্লেখ করতে হয়।
নমিনী সংক্রান্তঃ
o বন্ড ধারকের মৃত্যু হলে নমিনী বন্ডের মূল্য, সুদ এবং মৃত্যুঝুঁকি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে;
o বেনিফিসিয়ারী কর্তৃক ক্রয়কৃত বন্ডে একই পদ্ধতিতে নমিনী নিয়োগ করা যাবে;
o প্রতি সনদের জন্য একজনের অধিক নমিনী প্রদান করা যাবে না;
o বন্ড ধারকের মৃত্যুর পূর্বে নমিনীর মৃত্যু হলে, নমিনীর কার্যকারিতা থাকবে না;
o নমিনী বাতিল বা পরিবর্তন করা যাবে;
o বন্ড ধারকের মৃত্যুর পূর্বেই যদি নমিনীর মৃত্যু ঘটে, তবে মৃত বন্ড ধারকের উত্তোরাধিকারীগণ বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে মূল্য ও মুনাফা প্রাপ্য হবেন;
o উত্তোরাধিকারীগণ শুধুমাত্র মেয়াদপূর্তিতে মূল্য ও মুনাফা গ্রহণ করতে পারবেন;

অন্যান্য বৈশিষ্টসমূহঃ
o এ বন্ডের আসল অংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগযোগ্য;
o ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত মৃত্যু-ঝুঁকির সুবিধা রয়েছে;
o ষান্মাসিকভিত্তিতে মুনাফা প্রদেয়;
o বন্ডের বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ঋণ গ্রহণের সুবিধা রয়েছে;
o হারিয়ে গেলে, পুড়ে গেলে বা নষ্ট হলে ডুপ্লিকেট বন্ড ইস্যুর সুযোগ রয়েছে।
o এফসি একাউন্ট থাকার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
o এ বন্ডে বিনিয়োগের কোন ঊধ্বসীমা নেই।
o এ বন্ডে বিনিয়োগকৃত মূল অংক বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশে প্রত্যাবাসিত করা যাবে;
o বন্ডের বিপরীতে প্রাপ্র মূল অংক, মুনাফা এবং মৃত্যু ঝুঁকি সুবিধা ইত্যাদি বাংলাদেশে এবং কেবলমাত্র বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রদেয়;
o ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড-এ বিনিয়োগকৃত এবং অর্জিত মুনাফা আয়করমুক্ত;
o বন্ডের একটি এককের ক্ষেত্রে একজনের বেশী ধারক ও নমিনীর মনোনয়ন দেয়া যাবে না;
o অসুস্থতাজনিত কারনে বন্ড ধারক স্বাক্ষর করতে অপারগ হলে এবং একজন গেজেটেড অফিসার কর্তৃক তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ প্রত্যয়ন করা হলে প্রদানকারী অফিসার কর্তৃক সরেজমিন যাচাইয়ান্তে , বন্ড উপস্থাপনকারীর পরিচয় ও উপস্থাপিত বন্ডের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে বন্ড ধারকের হাতে ছাপ গ্রহন করে মেয়াদপূর্তি মূল্য অথবা সুদ পরিশোধ করবে।
o বন্ডের ক্রেতা শরিরীকভাবে পঙ্গু, স্বাক্ষর প্রদানে সম্পূর্ণ অক্ষম হলে এবং এর পক্ষে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট প্রদান করা হলে প্রদানকারী অফিসার কর্তৃক যাচাইয়ান্তে, বন্ড উপস্থাপনকারীর পরিচয় ও উপস্থাপিত বন্ডের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে উক্ত বন্ডের মেয়াদপূর্তি মূল্য অথবা সুদ নমিনী অথবা উত্তরাধিকারীকে পরিশোধ করবে।


লেখাটি ভালো লাগলে- লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন