অনলাইনে ই-টিআইএন নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিচে জানানো হলঃ

বর্তমানে ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলোও TIN সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পরে , আপনি যদি সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন অথবা ব্যবসায়ী হন এবং আপনার বাৎসরিক আয় যদি তিন লক্ষ টাকার অধিক হয় তবে আপনাকে অবশ্যই ই-টিআইএন(eTIN) নাম্বার গ্রহণ করে নিবন্ধিত হতে হবে। করদাতা হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজতর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ই-টিআইএন করদাতা হিসাবে (e-TIN) রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে। এ পদ্ধতিতে কয়েকটি সহজ ধাপ পেরোনেরার মাধ্যমে আপনি পেতে পারিন ১২ ডিজিটের একটি নতুন টিআইএন। বর্তমানে যাদের টিআইএন আছে, তাঁদেরকেও নতুন পদ্টধতির টিআইএন এর জন্য রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় চরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন নম্বর ও কোম্পানীর ক্ষেত্রে RJSC এর নিবন্ধন নম্বর প্রয়োজন হয়।
অনলাইনে ই–টিআইএন রেজিস্ট্রেশন/রি–রেজিস্ট্রেশনের জন্য যা প্রয়োজনঃ
প্রাপ্ত বয়স্ক বাংলাদেশী নাগরিক:
জাতীয় পরিচিতি নম্বর/পাসপোর্ট নম্বর, একটি বাংলাদেশী মোবাইল নম্বর
লিমিটেড কোম্পানী:
কোম্পানীর ইনকর্পোরেশন নম্বর, তারিখ পূর্বের টিআইএন (রি-রেজিস্ট্রেশনেরক্ষেত্রে)
নতুন পদ্ধতিতে ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ও রি রেজিস্ট্রেশনের শুরুতে প্রত্যেককে অবশ্যই একাউন্ট তৈরি করতে হবে।

প্রথম ধাপ: রেজিষ্ট্রেশন-
কাজটির জন্য অবশ্যই আপনার একটি ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন কম্পিউটারের প্রয়োজন হবে। মোবাইল থেকেও করতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে বিষয়টা একটু কঠিন মনে হতে পারে। তো যাইহোক, প্রথমেই আপনাকে এর জন্য বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ইনকাম ট্যাক্সপেয়ার পোর্টাল ভিজিট করতে হবে। ওয়েবসাইটে থাকা রেজিষ্ট্রেশন বাটনটিতে ক্লিক করার পর সেখানে আপনাকে কিছু তথ্য দিয়ে একটি ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরী করতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে বিষয়গুলি সংক্ষেপে আলোচনা করছি
ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড: রেজিষ্ট্রেশন পরবর্তীতে লগইন করার জন্য এই দুইটি তথ্যের প্রয়োজন হয়। যথাযথভাবে এবং সহজে মনে রাখতে পারবেন এমন ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ, কোন কারণে আপনি আপনার সার্টিফিকেট হারিয়ে ফেললে পরবর্তীতে এই অ্যাকাউন্টে লগইন করে পুনরায় সেটি ডাউনলোড করা সম্ভব।
সিকিউরিটি কোয়েশ্চেন: আপনি সহজে মনে রাখতে পারেন এবং সহজেই উত্তর দিতে পারবেন এমন প্রশ্ন নির্বাচন করে উত্তরটাও সহজভাবে লিখুন। আপনি যদি কোন কারণে ইউজার আইডি বা পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তবে সেটি পুনরূদ্ধারের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
কান্ট্রি: ডিভল্টভাবেই বাংলাদেশ সিলেক্ট করা থাকবে। পরিবর্তন করার কোন প্রয়োজন নেই।
মোবাইল নম্বর: আপনার সচল এবং পূর্বে কোন টিন সার্টিফিকেট রেজিষ্ট্রেশনের কাজে ব্যবহার হয়নি এমন একটি মোবাইল নম্বর প্রদান করুন
ইমেইল:আপনার ইমেইলটি নির্ভুলভাবে লিখুন।
সর্বশেষ নিচে থাকা ক্যাপচা কোডটি পূরণ করে রেজিষ্টার বাটনে ক্লিক করুন। ক্লিক করার সাথে সাথে আপনাকে অন্য একটি পেজে নিয়ে যাওয়া হবে এবং একটি অ্যাক্টিভেশন কোড চাইবে। রেজিষ্ট্রেশনের সময় আপনি যেই মোবাইল নাম্বারটি ব্যবহার করেছেন সেই নাম্বারেই অ্যাক্টিভেশন কোড পাঠানো হয়। মোবাইলের ম্যাসেজ থেকে কোডটি দেখে টাইপ করে অ্যাক্টিভেট বাটনে ক্লিক করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: লগইন এবং ক্যটাগরী নির্বাচন-
সঠিকভাবে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়ে গেলে ওয়েবসাইটের লগইন বাটনে ক্লিক করে আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করুন। ওয়েলকাম পেজে টিন রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি বাটন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করে রেজিষ্ট্রেশনের আবেদন শুরু করুন। এই ধাপে আপনাকে আপনার পেশা ও অবস্থান সংক্রান্ত কিছু তথ্য দিতে হবে। আপনি কি ধরনের পেশায় আছেন, তাছাড়া আপনি কোন জেলার কোন থানায় অবস্থান করছেন, এসব তথ্য দেওয়ার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন।

তৃতীয় ধাপ: আবেদন ফরম পূরন-
এবার আপনার সামনে মূল আবেদনের পেজটি এসে হাজির হবে। এই নির্ধারিত ফরমটিই আপনাকে পূরণ করতে হবে সঠিক ও নিভূল তথ্য দিয়ে। কোন তথ্য ভুল দিলে সার্টিফিকেট পাবেন না, এমনটি ফরমটিও সাবমিট করতে পারবেন না। ফরমটি পূরণের সময় অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রটি কাছে রাখুন। চলুন ফরমটিতে কি কি তথ্য দিতে হবে তা সংক্ষেপে জেনে নিই-
করদাতার নাম: আপনার নাম জাতীয় পরিচয়পত্রে যেভাবে আছে হুবুহু একইভাবে লিখুন।
লিঙ্গ:রেডিও বাটন থেকে মেল অথবা ফিমেল নির্বাচন করুন
জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে নিভুলভাবে নাম্বারটি লিখুন।
জন্ম তারিখ: জাতীয় পরিচয়পত্রে যে জন্ম তারিখ দেওয়া আছে সেটিই নির্বাচন করুন। অন্যথায় সার্টিফিকেট আসবে না।
পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রীর নাম: পরের ৩টি ঘরে পিতার নাম, মাতার নাম ও বিবাহিত হয়ে থাকলে স্বামী/স্ত্রীর নাম লিখুন। অবিবাহিত হলে ঘরটি ফাঁকা রেখে দিন। বাবা মায়ের নামের বানানের ক্ষেত্রে কোন বাধ্য-বাধকতা নেই, তবে নির্ভুলভাবে লেখাটাই উত্তম।
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: এরপর ফরমের একদম নিচের অংশে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করে গো টু নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন।
এ পর্যায়ে আপনার প্রদানকৃত সকল তথ্য আপনাকে মিলিয়ে দেখার জন্য প্রিভিউ করা হবে। তথ্য নির্ভুল হয়ে থাকলে পেজের নিচের দিকে সকল তথ্য সঠিক হয়েছে মর্মে ইংরেজিতে একটি অঙ্গীকারনামা রয়েছে এবং তার পাশেই একটি ছোট বক্স রয়েছে। বক্সটিতে ক্লিক করে সাবমিট অ্যাপ্লিকেশন বাটনে ক্লিক করুন। এটি হচ্ছে আবেদনের সর্বশেষ পর্যায়। আপনি সাবমিট অ্যাপ্লিকেশন বাটনে ক্লিক করার পর আপনার দেওয়া সকল তথ্য জাতীয় পরিচয় পত্রের সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখবে এবং তথ্য সঠিক হলে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি সম্বলিত একটি পেজ চলে আসবে যেখানে বলা হবে যে আপনার টিন সার্টিফিকেট (TIN) অ্যাপ্লিকেশন সফল হয়েছে। এবার পেজটির নিচে থাকার ভিউ সার্টিফিকেট বাটনে ক্লিক করলে আপনার টিন সার্টিফিকেটটি আপনাকে দেখানো হবে। আপনি চাইলে সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন এবং পরবর্তীতে যে কোন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট করার প্রক্রিয়াটি আশা করি আপনার কাছে সহজ ও সাবলীল হয়েছে এবং আপনি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন।


লেখাটি ভালো লাগলে- লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন