মালয়েশিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে এইরকম

কিভাবে মালয়েশিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন

মালয়েশিয়াতে ৫ ধরণের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে : ১. শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স (LDL ): এটা সাধারণত আপনি যখন ড্রাইভিং স্কুলে ভর্তি হবেন তখন আপনাকে এটা দেওয়া হবে |
২. প্রবেশনারি ড্রাইভিং লাইসেন্স (PDL ):আপনি যখন JPJ থেকে সবগুলো পরীক্ষায় পাস করবেন তখন আপনাকে এটা দেওয়া হবে |
৩. পারদর্শী ড্রাইভিং লাইসেন্স (CDL ): প্রবেশনারি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার দুই বছর পর আপনাকে এই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে |
৪. ভোকেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স (VDL ) / বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স: এই লাইসেন্স কোনো বিদেশী কে দেওয়া হয় না , এটা শুধু মাত্র মালেশিয়ানদের জন্য |
৫. আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP ): মালয়েশিয়া কোনো বিদেশিকে তাদের পক্ষ থেকে এই লাইসেন্স ইসু করে না , এটা শুধু মাত্র মালেশিয়ানদের জন্য |
উপরোক্ত বিষয়গুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য শুধু মাত্র প্রথম ৩ টি লাইসেন্স প্রযোজ্য , তাই আমরা এখন প্রথম তিনটি লাইসেন্স কিভাবে পাবো , সেই বিষয়ে আলোচনা করবো |

আপনার প্রথম যে লাইসেন্সটি সংগ্রহ করতে হবে তা হ'ল লার্নারের ড্রাইভিং লাইসেন্স (এলডিএল)। এই প্রক্রিয়াটি শুরু করার জন্য, আপনাকে আপনার কাছের একটি স্বীকৃত ড্রাইভিং স্কুলে নিবন্ধন করতে হবে। মালয়েশিয়ায় ১৫০ টিরও বেশি ড্রাইভিং স্কুল আছে এবং আপনাকে অবশ্যই কোনো না কোনো ড্রাইভিং স্কুলে ভর্তি হতে হবে , এছাড়া আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারবেন না । একেক স্কুলের ফি একেক রকম হয় , তবে সাধারণত ১০০০ -১৫০০ রিঙ্গিত হয়ে থাকে ।
ড্রাইভিং স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরে স্কুল থেকে আপনাকে ৫০০টি ছোট ছোট প্রশ্ন সম্বলিত একটি বই দেওয়া হবে , তবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই কারণ প্রশ্ন গুলো অনেক সোজা হয়ে থাকে | এরপর এই ৫০০ প্রশ্ন বোঝার জন্য আপনার জন্য একটি ছোট্ট ক্লাস নেওয়া হবে | এই ক্লাসটি সাধারণত মালয় ভাষায় হয়ে থাকে , তবে অনেক স্কুল ইংলিশ ভাষাতেও নিয়ে থাকে | এরপর আপনি চাইলে বাসায় চলে যেতে পারেন , যেই দিন আপনার কাছে মনে হবে যে আপনি এই ৫০০ টি প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে জানেন , এরপর অনলাইনে আপনাকে একটি ৫০ টি প্রশ্নের পরীক্ষা নেওয়া হবে , আপনি যদি ৪২ নম্বর বা তার বেশি পান তাহলে তারপরে ড্রাইভিং স্কুল আপনাকে কিভাবে ড্রাইভিং করতে হবে সেই সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিবে ৫ - ৬ ঘন্টা | এই ৫ /৬ ঘন্টা প্রশিক্ষণ শেষে ড্রাইভিং স্কুল আপনাকে একটি লার্নার্স ড্রাইভিং লাইসেন্স (LDL ) প্রদান করবে |
এই লাইসেন্স দিয়ে আপনি ড্রাইভিং করতে পারবেন কিন্তু আপনার সাথে অবশ্যই আপনার প্রশিক্ষক থাকতে হবে ( এর অর্থ আপনি এক এক ড্রাইভিং করতে পারবেন না, কারণ এই লাইসেন্স শুধু মাত্র শেখার জন্য )| এই লাইসেন্সের মেয়াদ ৩-৬ মাস হয়ে থাকে , তবে আপনি চাইলে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত এর মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারবেন | তবে আমরা বাংলাদেশিরা ড্রাইভিং করতে যতটা পারদর্শী আমাদের ৩ মাস সময়ও লাগবে না পরবর্তী লাইসেন্স পাওয়ার জন্য |

লার্নারের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পর আপনি যেই রকম ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে চাচ্ছেন (ম্যানুয়াল নাকি অটো গিয়ার) সেটার উপর ভিত্তি করে ড্রাইভিং স্কুল আপনাকে ২২ ঘন্টা ট্রেনিং করাবে, এই ট্রেনিং শেষ হওয়ার পর আপনি JPJ টেস্ট এর জন্য অংশ গ্রহণ করতে পারেন | JPJ টেস্ট সাধারণত হয়ে থাকে যে আপনি কিভাবে ইউ-টার্ন নিবেন , কিভাবে পার্কিং করবেন , খোলা রাস্তায় কিভাবে গাড়ি চালাবেন | এই পরীক্ষা গুলোতে আপনি পাস করার পর আপনাকে প্রবেশনারি ড্রাইভিং লাইসেন্স (PDL ) দেওয়া হবে , যেটার মেয়াদ ২ বছর হয়ে থাকে , এই দুই বছর আপনি এক একাই গাড়ি চালাতে পারবেন , তবে আপনার গাড়ির সামনের এবং পিছনের কাঁচের উপর "P " লেখা স্টিকার লাগিয়ে রাখতে হবে | এই দুই বছরের মধ্যে যদি আপনি বিভিন্ন সময়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করেন এবং সেটির পরিমান যদি ১০ পয়েন্টার বেশি হয় তবে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি বাতিল হয়ে যাবে |
দুই বছর সঠিক ভাবে যদি আপনি ড্রাইভিং করতে পারেন , তবে দুই বছর শেষে আপনাকে পারদর্শী ড্রাইভিং লাইসেন্স (CDL ) দেওয়া হবে যেটির মেয়াদ হবে এক বছর , তবে আপনি এটি ৫ বছর মেয়াদ করে নিতে পারবেন |


লেখাটি ভালো লাগলে- লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন